
দিঘলিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি:
খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর ইউনিয়নে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। দিন-রাত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীরা সবচেয়ে বেশি কষ্টের শিকার হচ্ছেন। তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২৭ জুন (শনিবার) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে বলে পূর্বঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা পর বিকেল ৫টায় বিদ্যুৎ আসে। রাত ৯টার দিকে আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রাত ১২টার দিকে আবারও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং রাত ১ টা ১৩ মিনিটে বিদ্যুৎ আসে এবং পুনরায় ২:৫ চলে যায়।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, অফিসের কাজ এবং মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ, একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লাগে। কিছুক্ষণ বিদ্যুৎ থাকার পর আবারও চলে যায়। ফলে দিনের পাশাপাশি রাতেও বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের ঘুম ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড ব্যাহত হচ্ছে।স্থানীয়রা আরও জানান, হাসপাতালের চিকিৎসাসেবাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, ছোট শিশু ও অসুস্থ রোগীরা প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় অনেকেই শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।এলাকাবাসীর দাবি, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরও দিঘলিয়ায় কেন এত বেশি লোডশেডিং হচ্ছে, তা তাদের বোধগম্য নয়। তাদের অভিযোগ, আশপাশের অনেক উপজেলার তুলনায় দিঘলিয়ায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি হলেও এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।বারাকপুর ইউনিয়নসহ দিঘলিয়ার বাসিন্দারা দ্রুত লোডশেডিং কমিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
